মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মানুষ গড়ার এক স্বপ্নযাত্রা
শিক্ষা মানুষের জীবনকে আলোকিত করে, নৈতিকতা তাকে সঠিক পথ দেখায়, মানবতা তাকে মহৎ করে এবং দেশপ্রেম তাকে দেশের প্রতি দায়বদ্ধ করে। এই চারটি মহান আদর্শ—শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবতা ও দেশপ্রেম—কে ধারণ করে একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের নরকলিকাতা গ্রামে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হয় এবং ২০১৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠাতার মরহুম পিতা জনাব আব্দুল মজিদ ও মরহুমা মাতা জরিনা খাতুন-এর পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তাঁদের স্মৃতি ও আদর্শকে ধারণ করে একটি আধুনিক, মানবিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ একটি দৃশ্যমান ও গৌরবময় বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।
আমাদের দর্শন
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়—শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক চেতনায় সমৃদ্ধ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগত ও যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদেরকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রত্যয়েই প্রতিষ্ঠানটি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
আধুনিক অবকাঠামো ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ রেখে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
এখানে রয়েছে—
- প্রশস্ত ও মনোরম শ্রেণিকক্ষ
- শ্রেণিকক্ষে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম
- আধুনিক বিজ্ঞানাগার
- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব
- মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম
- সমৃদ্ধ ও আধুনিক লাইব্রেরি
- প্রশস্ত খেলার মাঠ
- সুদৃশ্য শহীদ মিনার
- স্কাউটিং, প্যারেড ও ডিসপ্লে অনুশীলনের সুযোগ
দূর-দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রয়েছে ১৩টি স্কুল ও কলেজ বাস। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শেখার বিশাল জগৎ
আমরা বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষার্থীর প্রতিভা শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, চিন্তাশক্তি ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য রয়েছে বিস্তৃত পাঠক্রম-বহির্ভূত কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হচ্ছে ১৪টি বিশেষায়িত ক্লাব—
১. বিতর্ক ও বক্তৃতা ক্লাব
২. সাংস্কৃতিক ক্লাব
৩. বিজ্ঞান ও গবেষণা ক্লাব
৪. গণিত অলিম্পিয়াড ক্লাব
৫. ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব
৬. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্লাব
৭. মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ কুইজ ক্লাব
৮. আইসিটি ক্লাব
৯. স্পোর্টস ও শৃঙ্খলা ক্লাব
১০. ফটোগ্রাফি ও ফাইন আর্টস ক্লাব
১১. নাট্য ক্লাব
১২. গ্রীণ ক্লাব
১৩. পুষ্টি ক্লাব
১৪. বিজনেস ক্লাব
এসব ক্লাবে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ ও আগ্রহের ক্ষেত্রে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে তারা শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে।
সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও দেশপ্রেমের চর্চা
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য প্রতিষ্ঠানে রয়েছে প্রশস্ত খেলার মাঠ। মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সুদৃশ্য শহীদ মিনার শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
বছরজুড়ে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করা হয়। পাশাপাশি রয়েছে স্কাউটিং, প্যারেড, ডিসপ্লে, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় বাংলা ও ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরবও অর্জন করেছে। এসব সাফল্য শিক্ষার্থীদের মেধা, আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
দক্ষ শিক্ষক, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থী
একজন মেধাবী ও অভিজ্ঞ অধ্যক্ষের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৭২ জন নবীন, উদ্যমী ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষক। তাঁদের আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে নিয়মিত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাঁদের চোখে রয়েছে বড় স্বপ্ন, মনে রয়েছে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এবং ভবিষ্যৎ গড়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা।
ফলাফল ও অর্জনের গৌরব
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক জিপিএ-৫ এবং বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের সুনামকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ ও ২০২৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
এ অর্জন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; এটি আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা ও ভালোবাসার ফসল।
অভিভাবকদের আস্থাই আমাদের শক্তি
আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা আমাদের শিক্ষার্থীরা এবং তাঁদের অভিভাবকবৃন্দ। তাঁরা আস্থা ও বিশ্বাস রেখে তাঁদের সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে আমাদের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা আমাদের জন্য একই সঙ্গে গর্বের ও দায়িত্বের।
সকল অভিভাবককে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তাঁদের আস্থা আমাদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
আগামী দিনের প্রত্যয়
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ একটি স্বপ্নকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে—
“শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ, মানবিক সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা।”
আমরা বিশ্বাস করি, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু তার ভবন, ফলাফল কিংবা পুরস্কারে নয়; বরং তার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন মানুষ হয়ে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করে, তার মধ্যেই প্রতিষ্ঠানের সার্থকতা নিহিত।
তাই সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা, ভালোবাসা ও প্রচেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেবে এই জনপদে, তৈরি করবে আলোকিত মানুষ, গড়ে তুলবে মানবিক ও আদর্শ সমাজ।
আমাদের পথচলা হোক আরও দূর,
আমাদের স্বপ্ন হোক আরও বৃহৎ,
আর আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী হোক আগামী দিনের আলোকিত বাংলাদেশের নির্মাতা।
শিক্ষা • নৈতিকতা • মানবতা • দেশপ্রেম
মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ৷
স্বপ্ন থেকে সাফল্যে—আলোকিত ভবিষ্যতের পথে।
-এ কে এম শহীদুল হক